শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭:৩২ পিএম, ২০২১-১০-০৫
দীর্ঘ ৬৫ দিনের মৎস্য অবরোধ কাটিয়ে গত ২৪ জুলাই ৬শত ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে নামে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের প্রায় ১০ হাজার জেলে। তবে তাতেও কপাল খুলেনি তাদের। প্রথম দিকে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ না পাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এবং পরবর্তীতে প্রায় দীর্ঘ একমাস অপেক্ষার পর ইলিশের ভরা মৌসুমের খরা কাটিয়ে আস্তে আস্তে জেলেদের জালে ধরা দিতে থাকে ইলিশ। শুরু হয় উপকূলের ঘাটে ইলিশের মেলা। জেলেদের মুখে ফুটে হাঁসি। তবে তাদের হাঁসি যেন আর দীর্ঘায়িত হলোনা। মা ইলিশ প্রজনন নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২দিন ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় আবারও ইলিশ পল্লীতে যেন নেমে এসেছে খরা। ধার-দেনা করে সাগরে বোট নামিয়ে শ্রমিকের বেতনসহ অনেক লোকসানে রয়েছে বলে জানান বোট মালিকরা। গতকাল সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গলাকাটা ঘাট এবং সর্ববৃহৎ উঠান মাঝির ঘাট ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন আগে যেখানে মাছের ক্রেতা-বিক্রেতায় সকাল-বিকাল ভরপুর ছিলো পুরা ঘাট। এখন সেখানে দুয়েকজন জেলে ছাড়া কেউ নেই। দেখা যায়, সমুদ্রে থেকে সব ট্রলারগুলোকে কূলে তুলে সারিবদ্ধ ভাবে নোঙ্গর করা হচ্ছে। অনেকেই নিষেধাজ্ঞার ফাঁকে নিজেদের জালগুলোকে সেলাই করে ঠিক করে নিচ্ছে । আবার অনেককে দেখা যায় মাছ ধরার জালগুলো রশি বেঁধে গাড়ি করে নিয়ে যেতে। ক্রেতার আনাগোনা নেই তাই ইলিশ মেলাকে ঘিরে গড়ে উঠা অর্ধশত চায়ের দোকানপাট গুলোও বন্ধ করে দিচ্ছে। শৈবাল নামের এক বোট মালিক জানান, অনেক ধার-দেনা করে আমরা সাগরে বোট নামিয়েছিলাম। প্রথমদিকে মাছ না পেলেও শেষের দিকে মাছ পড়তেছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের এই নিষেধাজ্ঞায় আমরা খুবই বিপাকে পড়ে গেছি। তবুও আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে সব বোট সাগর থেকে তুলে ফেলেছি। তবে আগামীতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে জেলেদের কথা গুরুত্ব সহকারে কর্তৃপক্ষকে ভাবার অনুরোধ জানাচ্ছি। গলাকাটা ঘাটের অর্থ-সম্পাদক নূর মোহাম্মদ জানান, আমরা জেলেরা এই সাগরে মাছ ধরা ছাড়া আর অন্য কোন কাজ জানিনা। তাই এখানে মাছ ধরেই নিজের পরিবার চালাতে হয়, সন্তানদের লেখা-পড়া করাতে হয়। গত বছর অক্টোবরের শেষের দিকে নিষেধাজ্ঞা দিলেও এই বছর প্রথমেই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিছে। যার কারণে আমরা মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। উঠান মাঝির ঘাট কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাছিরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সবাই আড়তদার, মহাজন, ব্যাংক বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে সাগরে বোট নামিয়েছে। প্রথম দিকে শুধু খরচ পুষিয়েছি। শেষমেশ যখন জালে ইলিশ পড়া শুরু হয়েছে তখনি সরকারের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। অন্যান্য বছর আরো পরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এই বছর ভরা মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই আমরা সবাই লোকসানে আছি। আর মাত্র ৪/৫ দিন সময় পেলে মোটামোটি খরচ পুষিয়ে নেওয়া যেত। তিনি আরো জানান, সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের চাল দেওয়া হয় যেগুলো কেউ পাই আর কেউ পাইনা। আমাদের চালের দরকার নেই। লক্ষ লক্ষ টাকার লোকসান চাল দিয়ে পূরণ হবেনা কখনো। এই বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, মা ইলিশ প্রজনন নিরাপদ রাখার লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশ মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এরপর আবারও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। আর মাছ ধরার এই বন্ধ সময়ের জন্য প্রতি জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এবং ভবিষ্যতে তাদের ক্ষতি পোষাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : দেশ রক্ষায় যুবদলকে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকà...বিস্তারিত
বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধি : রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্à...বিস্তারিত
স্টাফ রিপোর্টার : : এস.এফ.এম.মোস্তাঈন বিল্লাহ: দুর্গম পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দ...বিস্তারিত
মীরসরাই প্রতিনিধি : : মীরসরাই উপজেলা প্রশাসনে নতুন নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে যোগদান করে...বিস্তারিত
আনোয়ার হোসেন ফরিদ, ফটিকছড়ি : : চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি চুরির চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশে...বিস্তারিত
বোয়ালখালী প্রতিনিধি : : আলমগীর রানা : চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে প্রায় ৪০০ দাবাড়ুর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সফলভাবে সম্পন্ন ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited